আরশাদুল ইসলাম ঝন্টু কেশবপুর যশোর
সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে!সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে; সাগরদাড়ীতে মধুমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বলেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন আধুনিকতার জনক, পৃথিবী যখন প্রাচীন ধ্যান ধারনায় পাশ্চাত্য জমিদারী রীতিনীতি প্রচলিত ছিলো, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আধুনিকতা ও আধুনিক সমাজের প্রবর্তন ঘটিয়েছেন।
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের তীরে মুধুমঞ্চে ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মজয়ন্তী ও সপ্তহব্যাপী মধুমেলা-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ফিরোজ সরকার এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি ফিতা কেটে ও শান্তি পায়রা উড়িয়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা-২০২৫ এর উদ্বোধন করেন।
যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মধুমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন।
যশোর জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে মধুমঞ্চে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোরের পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ, যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির অধ্যপক গোলাম রসুল, উপজেলা জামায়াতের আমীর,বিশিষ্ট সমাজসেবক শিক্ষাবীদ অধ্যাপক মুক্তার আলী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপি;র সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি কমিশনার ফারজানা ইসলাম ও সরকারি এম এম কলেজের প্রফেসার জিলুল বারীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো বক্তব্য রাখেন, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাবেক পিপি ও যশোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ ইসহাক, যশোর ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবুল কালাম আজান লিটু, যশোর প্রাচ্যসংঘের প্রতিষ্ঠাতা লেখক ও গবেষক বেনজীন খান, বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইসমীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলা সদস্য সচিব জেসিনা মুর্শিদ প্রাপ্তি প্রমুখ।
গতকাল শুক্রবার মধুমেলার উদ্ভোদনী দিনে সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় সাগরদাঁড়িতে মধু ভক্তদের উপচচ্ছে পড়া ভীড় সবচেয়ে বেশি আলোচিত করে তুলেছে মানুষকে।মধুমেলার উদ্ভোদনী দিনে অতীতে কখনো এতো ভীড় হতে দেখেনি। মধুমেলার মাঠে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি মেলা।
মধুমেলার উদ্ভোদনী অনুষ্ঠানের পূর্বে মধুমঞ্চে দুপুর দুইটায় প্রথম পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিলো কেশবপুর জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা(জাসাস), কেশবপুর সপ্তসুর, সানতলা নব দিগন্ত সাংস্কৃতিক একাডেমি, সাগরদাঁড়ির শতদল সংগীতালয়, তান সংগীত ও কপোতাক্ষ সংগীত একাডেমীর পরিবেশনায় মনোঞ্জো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২য় পর্বে উদ্ভোদনী অনুষ্ঠান শেষে তৃতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যশোর জেলা সদরের অংগ্রহণকারী সাংস্কৃতিক সংগঠন সমুহের পরিবেশনায় ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি